ক বি-অ নু বা দ ক ক ও স র জা মা ল
জন্ম:-২৪ অক্টোবর, ১৯৫০। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের এম-এ। পড়েছেন সাংবাদিকতাও।৩৫ বছর আকাশবাণীর প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন। অতিথি অধ্যাপক হিসেবে মাস কমিউনিকেশন পড়িয়েছেন বিশ্বভারতী, ভারতীয় বিদ্যাভবন ও টেকনো ইন্ডিয়ায়।মূলত কবি, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক হিসেবেও খ্যাত। সব মিলিয়ে গ্রন্থের সংখ্যা বিশ।
বিশিষ্ট ফরাসী কবি রবের দেসনস-র (Robert Desnos) কবিতার অনুবাদ করেছেন বিশিষ্ট কবি -অনুবাদক কওসর জামাল
ফরাসি কবি
রবের দেসনস (Robert Desnos)
[রবের দেসনস (১৯০০-১৯৪৫) জন্মেছিলেন প্যারিসে। ফ্রান্সের শিল্প-সাহিত্যে স্যুররিয়ালিস্ট আন্দোলনের প্রথম দিকে আঁদ্রে ব্রতোঁর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব এবং এই আন্দোলনের অন্যতম কবি হয়ে ওঠেন দেসনস। তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল ‘লিতেরাত্যুর’ পত্রিকায়। তাঁর কবিতা সম্মোহনী ঘোরের মধ্যে থেকে উঠে আসা রচনা, যা ছিল স্যুররিয়ালিস্টদের বৈশিষ্ট্য। তাঁর প্রথম গ্রন্থ La Liberté ou lámour (স্বাধীনতা কিংবা প্রেম, ১৯২৭)। পরের গ্রন্থ Ténèbres (অন্ধকার, ১৯২৭) ও Corps et biens (শরীর এবং ভালোত্ব, ১৯৩০)। তাঁর কবিতার চিত্রকল্পে স্বপ্ন ও বাস্তব হাত ধরাধরি করে চলে। ১৯৩০ সাল নাগাদ দেসনস স্যুররিয়ালিজম-এর পথ থেকে সরে প্রথাগত ও ধ্রুপদি কবিতার দিকে ঝুঁকেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানবিক সহানুভূতির যে আবেগ ব্যাপ্ত হয়েছিল, তা দেসনসের কবিতাকে প্রভাবিত করেছে। এই সময়ে রচিত কাব্যগ্রন্থ Fortunes (১৯৪২), État de veille (জাগরুক অবস্থা, ১৯৪৩), Contrée (দেশ, ১৯৪৪)। অনূদিত কবিতা দুটি স্যুররিয়ালিস্ট পর্বের রচনা।]
সাক্ষাৎ
(Recontre)
নিজের পথে যাও।
সন্ধ্যা এসে লাঠি তুলেছে পথচারীদের সামনে।
সন্ধ্যা গাঢ় হলে ঘরে ফেরা গরুর গলার ঘন্টা বাজে আর তুমি
বুলেভারের ওপর ছড়িয়ে দিচ্ছ ভীতি।
নিজের পথে যাও।
এখন উজ্জ্বল সময়ের আলোকিত ও বাঁকানো স্থাপত্যলিপি
লড়াই মৃত্যুর জন্য। রেফারি সত্তর অব্দি গোনে।
অংকবিদ ঘুম থেকে উঠেই বলেন,
‘গরম লেগেছে খুব’!
আধিভৌতিক শিশুরা পরে আছে পরিচ্ছদ তোমার আমার মতো
মধ্যরাত মাদলেনের নেকলেসে যোগ করে একটা লাল মুক্তো
এবং তারপর বন্ধ করে স্টেশনের ফোলডিং দরজাগুলো।
মাদলেন, মাদলেন, তুমি তাকিয়ো না ওভাবে আমার দিকে;
তোমার প্রতিটি চোখ থেকে বেরিয়ে আসছে ময়ূর।
জীবনের ছাই শুকিয়ে দিচ্ছে আমার কবিতা।
পরিত্যক্ত স্থানে অদৃশ্য পাগলামি ভিজে বালির ওপর
রেখে যায় তার পদচ্ছাপ।
ব্বিতীয় বক্সার জেগে উঠে বলে,
‘খুব শীত করেছে আমার’।
প্রেমের মুহূর্ত দ্বিপ্রহর সূক্ষ্মভাবে অত্যাচার করে চলে আমাদের
রুগ্ন চোখের ওপর।
এক জ্ঞানী চিকিৎসক প্রার্থনারত মহিলার হাতদুটো
সেলাই করে দিয়ে বলেন এবার ঘুম হবে ভালো।
এক সুদক্ষ পাচক আমার থালায় মিশিয়ে দেয় বিষ
আর আমাকে আস্বস্ত করে এবার হাসব আমি খুব
এর ফলে সত্যি আমি হাসব এবার।
সূর্য এত তীব্র যে আমি মাদলেনের সঙ্গে যে-ভাষায় কথা বলি
তাতে মাথার চুলকে ডাকা হয়েছে রোমান্স বলে।
নামবাচক শব্দের অর্থও বলে দিচ্ছে অভিধান :
লুই-এর অর্থ হল পাশার দান,
আঁদ্রের মানে প্রবাল-প্রাচীর,
পল মানে ইত্যাদি ইত্যাদি...
কিন্তু তোমার নামের অর্থ নোংরা :
তুমি নিজের পথে চলে যাও!
এত স্বপ্ন আমি দেখেছি তোমাকে নিয়ে
(J’ai tant rêvé de toi)
এত স্বপ্ন আমি দেখেছি তোমাকে নিয়ে
তোমাকে বাস্তব বলে মনে হয় না আর
এখনও সময় আছে বুঝি পৌঁছোব তোমার তাজা দেহের নিকটে
চুমু খাব ওই মুখে, এবং তোমার
প্রিয় কণ্ঠস্বর জেগে উঠবে পুনরায়?
এত স্বপ্ন আমি দেখেছি তোমাকে নিয়ে
আমার দুহাত দেখি তোমার ছায়াকে আলিঙ্গন করতে গিয়ে
স্বাচ্ছন্দ পেয়েছে খুঁজে আমার নিজের বুকে আড়াআড়ি থেকে,
তোমার দেহের মাপে তারা বাঁকা হয়তো হবে না।
যা আমাকে তাড়িত করেছে শাসনে রেখেছে এতদিন এতটা বছর
তার বাস্তব অবয়বের সামনে আমি নিশ্চিতভাবেই ছায়া হয়ে যাব,
ও আবেগপূর্ণ তৌলযন্ত্র!
এত স্বপ্ন আমি দেখেছি তোমাকে নিয়ে যে নিশ্চিতভাবে আমার সময় নেই
আর জেগে উঠবার। দাঁড়িয়ে ঘুমোই আমি আর আমার শরীর
জীবন ও প্রেমের যত অবয়ব আছে তাদের ও তোমার মুখোমুখি
তুমি, যে আমার এই মুহূর্তের সবকিছু, ছুঁতে পারি না তোমার মুখ আর ঠোঁট
যেভাবে প্রথম সামনে আসা পথচারীর মুখ-ঠোঁট ছুঁয়ে দিতে পারি।
এত স্বপ্ন আমি দেখেছি তোমাকে নিয়ে
হেঁটেছি এতটা, কথা বলেছি যে কত, ঘুমিয়েছি তোমার মায়ামূর্তির সাথে
যে, এখন কর্তব্য আমার মায়ামূর্তিদের আর এক মায়ামূর্তি, ভূতের চেয়েও
আরও শতগুণ ভূত হয়ে ওঠা—যে হেঁটে যাবে, আনন্দ উজ্জ্বল হেঁটে যাবে
তোমার এ জীবনের সূর্যঘড়ির ভিতর দিয়ে।


wah
ReplyDelete