ক বি তৈ মু র খা ন
তৈমুর খান
নব্বই দশকের কবি ও গদ্যকার।কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল:-এই ভোর দগ্ধ জানালায়, বৃত্তের ভেতরে জল, জ্যোৎস্নায় সারারাত খেলে হিরণ্য মাছেরা, নির্বাচিত কবিতা, উন্মাদ বিকেলের জংশন, স্তব্ধতার নিরুত্তর হাসি ইত্যাদি । পুরস্কার পেয়েছেন : কবিরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার, দৌড় সাহিত্য সম্মান এবং অক্সিজেন সাহিত্য সম্মান এবং নতুনগতি সাহিত্য পুরষ্কার।
দুটি কবিতায়
কবি তৈমুর খান
মাটির কবিতা
চশমা পরা বহু মেয়ে আর হাফপ্যান্ট পরা বহু পুরুষ
বাগানে এসেছে হাওয়া খেতে
আমি পরিত্যক্ত সেলুনের পাশে সময়ের চুল-ঝাঁটা দেখি
পাশ দিয়ে চলে গেছে বহুদূর মাজাভাঙা নদী
শতাব্দী এসেছে নতুন আলোর আল্পনায়
নগ্ন আর অর্ধনগ্ন দিনে আমাদের চতুর সঙ্গম
জন্ম-জন্মান্তর পার হয়ে এসে ঘুরপাক খায়
কত পরামর্শ দোকান খুলেছে
হৃদয়ের মতো রঙিন ধারণাগুলি দোকানে দোকানে
বৃষ্টি, কাকলি আর সোনালিরা রোদ্দুরে দিব্যি হাসছে
আমি সব অপার্থিবতা সহ্য করে
কেবল নষ্ট হচ্ছি মোহের যাতনায়
যদিও কোথাও সত্য আছে, সত্যের বিজ্ঞাপন দেখি
যদিও রাস্তা পাইনি খুঁজে
ধর্মের পোশাকে বিশ্বাস দিয়েছে পরিচয়
কখনও দেখিনি বিশ্বাসকে আমি ছুঁয়ে
প্রসন্ন মাটিতে দাগ কেটে কেটে
তাই এত হিজিবিজি
মাটির কবিতা লিখে লিখে আয়ু ক্ষয় করি…
সন্ধ্যামণি
বৈরাগ্যের ভাষা কেমন হবে তা জানতে এসেছি
সন্ধ্যামণির কাছে
ওর ঘরে চাঁদের আলো, ওর ঘরে অন্ধকার ফিকে হয়ে আছে
মধ্যপন্থার যুগে আমাদের দোলাচলগুলি
হাওয়ামোরগের মতো ঘোরে
যুদ্ধের বাঁশিকে খেলার মাঠের ডাক মনে হয়
মৃত্যুকেও নৈশজীবনের বৈভব
সন্ধ্যামণির আবছা হাসিতে দিগন্ত ভরে যায়
কোলাহলের সন্তানেরা ব্যস্তজীবন নির্মাণ করে
আত্মবিদ্যা থেকে পরার্থ যাপনের ক্রিয়ায়
আমাদের কলঙ্কিত ঐশ্বর্য কেবল উজ্জ্বল হতে চায়
সন্ধ্যামণি তবু ডাকে
আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি সাড়া দেয়
কোনো আদিম প্রলুব্ধতায় চেয়ে থাকে সারাদিন
তার অপার্থিব ঊরুসন্ধির মূলে….


Comments
Post a Comment