ক বি রু দ্র প লা শ ম ন্ড ল
জন্ম এবং বড় হয়ে ওঠা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিকটবর্তী গ্রাম মদনপুরে। বর্তমানে চুঁচুড়া, হুগলির স্থায়ী বাসিন্দা। স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখির সূচনা। মাঝখানে কিছুটা বিরতি। আবার শুরু। ইতিমধ্যে বহু লিটিল ম্যাগাজিন, ই-ম্যাগাজিন এবং ওয়েবজিনে প্রকাশ পেয়েছে অসংখ্য কবিতা। পেশায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী। বাংলা সাহিত্য নিয়েই পড়াশোনা। কবিতার কাছেই খুঁজে পান নিবিড় প্রশান্তি।
দুটি কবিতায়
কবি রুদ্রপলাশ মন্ডল
নক্ষত্রহীন রাতের যাপনকথা
যে হাতে হাত রাখলে সব ভয় কেটে যেত সেই
হাত আচমকা বায়ুহীন হয়ে গেলে জীবনের
সব চাঁদ ডুবে যায়
সবুজের শুঁড়িপথ ঢাকা ছিল যে ছায়ায় বজ্রের তাণ্ডব
ঝলসিয়ে কেড়ে নিলে সবটুকু শীতলতা— পুড়ে খাক হয়ে
যায় মননের ঘাস;
নক্ষত্রহীন রাতের নির্জন বালিয়াড়ির নীলাভ ছায়ায়
সূর্যছোঁয়া স্বপ্নেরা ক্রমশ
ঝরিয়ে চলে চোখের জল
এবং রক্তরেখার প্রতিটি আঁচড়ে
চিত্রিত হ'তে থাকে বিজিত বর্ণমালা
তবুও নিঃশব্দে কেউ কেউ জেনে যায়
ঘসা কাচের ভেতরে অবরুদ্ধ কোনও
অনাথ শিশুর আড়মোড়া ভাঙা শেষ হয়ে গেলে
ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি খুলে দেবে তার জ্বালামুখ
আর অর্ধেক পৃথিবী তাকিয়ে দেখবে
গড়িয়ে চলা তরলের গা বেয়ে ফুঁসে উঠছে আপসহীন ধোঁয়া
বিকেলের রোদ লাগা দমকা বাতাস
পথ ভুলে যেখানেই যাই
দেখি দমকা বাতাস এসে বলে যায়
জোনাকিরা আজও জেগে আছে
নির্জন শ্যাওড়ার বিষণ্ণ ডালে রাতের আঁধারে
ভাঙা চাঁদ চ'লে গেছে দিগন্ত পেরিয়ে
ফেলে রেখে তার ম্লান জ্যোৎস্না
প্রহরের কলরবে শেয়ালের হুংকার উত্তাপ কেড়ে নিলে
পোড়োভিটের হারানো হাঁসেদের রুপোলি পালকগুলো আরও
দীর্ঘ স্তব্ধতায় ঢেকে যায়; আশাহীন কুয়াশায় ভেসে থাকে
জীবনের যতকিছু এলোমেলো গান, সব আলো নিভে গেলে
নিস্প্রভ বিছানাতে ঘুমিয়ে পড়ে অভিমানী শিশিরের কণা
তবুও তো বাতাসেরা ফিরে ফিরে আসে,
ব'লে যায়— পোড়ভিটের নির্জনতায়
একাকী দাঁড়িয়ে থাকা চন্দন-ছায়ার কথা, আম্রপালির গা ঘেঁসে
ডুমুরের ডালে ব'সে ব্যর্থতার ঝিমুনিতে ক্লান্ত
চতুর মাছরাঙার গল্প
আজ আর
চাঁদনির নলবন নাই বা পেলাম, তাতে কী-বা আসে যায়
যেখানেই বাঁধি ঘর—খুঁড়ি কুয়ো —সাজাই বাগান
দেখি বিকেলের রোদ এসে ঠিক ছুঁয়ে গেছে খেজুর মাচান


Comments
Post a Comment