স ম্পা দ কে র জা না লা


ড.জয়গোপাল মণ্ডল


জন্ম:-সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে তথা দক্ষিণ ২৪ পরগণার রায়দিঘী থানার অন্তর্গত মণ্ডলপাড়া গ্রামে ১৫ আগস্ট ১৯৬৯। প্রথমেই কলকাতার সিঁথি আর বি টি স্কুলে কয়েকবছর শিক্ষকতার পর বারুইপুর মদারাট পপুলার একাদেমী স্কুলে ন'বছর শিক্ষকতার জীবন ছেড়ে বিনোবা ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।বর্তমানে বিনোদ বিহারী মাহাত কয়লাঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয়,ধানবাদে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।  

সাতটি কাব্যগ্রন্থ:-যদি বাঁচতে চাও,একটি আবেদন, লাল টুকটুকে আকাশে বিহঙ্গ একা,একফালি সকাল,নিবিড় অভিসারে,একটি কথা অনেক নদী এবং কৃষ্ণবিরহ ।

প্রবন্ধ গ্রন্থ:-সু্ভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার ঘর ও বাহির (দে'জ পাবলিশিং),প্রসঙ্গ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়(দে'জ পাবলিশিং),বিবেকচিন্তা (সংকলন ),কবিতার অন্তরলোকে প্রাবন্ধিকতা (সংকলন ),পদ্মানদীর মাঝি সম্পাদনা (কল্লোল),'কবিতার আঙিনায় কৃষক আন্দোলন' এবং করোনা পৃথিবী ও বাংলা কবিতা (সংকলন),গণেশ বসু কবিতা সংগ্রহ সম্পাদনা (দিয়া প্রকাশনী) প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশিত। তিনি 'সাহিত্য অঙ্গন' পত্রিকার সম্পাদক(ISSN : 2394-4889)।

সম্মাননা:-সুন্দরবন উত্তরণ পত্রিকা সম্মাননা (২০০৭), বাংলার মুখ অনন্য সম্মান ২০১৯-এ,পশ্চিমবঙ্গ ছোটগল্প প্রসার অকাদেমি পুরস্কার (২০২০),আমি অনন্যা পত্রিকার ছোটগল্প প্রতিযোগিতা সম্মান (২০২০), মোহিতলাল মজুমদার স্মৃতি পুরস্কারে (২০২১) এবং রূপকথা সাহিত্য সম্মানে (২০২২)সম্মানিত ।

C/O সম্পাদকের জানালা~


এ সংখ্যার জন্য মনোনীত সম্পাদক হলেন 'সাহিত্য অঙ্গন' পত্রিকার সম্পাদক ড. জয়গোপাল মন্ডল
















আত্মহনন,তবুও শান্তি —সৃজনের অবিরাম আরাম

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় যখন পরিচয় কিংবা সন্দেশ সম্পাদনা করছেন তখন তিনি প্রতিষ্ঠিত কবি, এমনকি জনযুদ্ধ পত্রিকার জন্য পথে পথে ঘুরে ঘুরে পথকুড়নো শব্দে-কথায় রিপোর্টাজ নির্মাণেও ব্যতিক্রমী ঘরানার স্রষ্টা। আর যারা জীবনযুদ্ধে পথ চলতে চলতে ঘটনাক্রমে যুক্ত হন সম্পাদনার কাজে--সেখানে অনেক অভাব-অনটন,শিক্ষানবিশ তকমা থাকে,তৎসত্বেও স্ফূরিত স্বপ্ন নাম না জানা ফুলের মতো পাপড়ি মেলে।

যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখনও পারিবারিক সূত্রে অভিনয়ের ঈপ্সিত কামনা ভেতরে ভেতরে টগবগ করে ফুটছে,শিক্ষাগুরু ড.স্বপন সাহার সান্নিধ্যে অভিনেতা হওয়ার সখ পেয়ে বসেছিল,ইতিমধ্যেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও অর্জিত হয়েছে।আলোক দেবের নির্দেশনায় প্রতিকৃতি গ্রুপে কিছুদিন অভিনয় চর্চার পর টেলর শঙ্কর পালের গল্পে গল্পে রতন দেবের নাট্যমন্দিরের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠার ফল—নাট্যোৎসব করার অসীম উন্মাদনা।সেই সূত্রে প্রথামতো স্মরণিকা প্রকাশে প্রকৃত ও স্বাধীনভাবে সম্পাদনার হাতেখড়ি, ১৯৯৮। প্রথম কাজ—প্রচুর সমস্যা—তখন পত্রিকা ছাপা সহজ ছিল না—তবুও বিজ্ঞাপন জুটে গেল কিছু, ছোটখাটো—লেখা এসে গেল রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, শুভঙ্কর চক্রবর্তী,রামরমণ ভট্টাচার্য,রঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়,প্রদীপ সেনগুপ্ত,ড.তাপস বসুর মতো সেসময়ের প্রখ্যাত লেখকের। উদ্বোধনেও আরো অনেক অভিনেতা–অভিনেত্রীর উপস্থিতি।স্বদেশি প্রিন্টারে ছাপার মতো সামর্থ্য হলো না। তখন সবেমাত্র কম্পিউটারে কেউ কেউ টাইপ করছেন—বন্ধু মানিকের সাহায্যে জেরক্স অফসেটে ছাপা হলো,তারপর পিন বাইন্ডিং। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, শুভঙ্কর চক্রবর্তী এবং রামরমণ ভট্টাচার্যের আন্তরিক প্রশংসায় মনে সম্পাদনার উদ্দীপনা সঞ্চারিত।এভাবেই পরের বছর—সেবারে অনেক প্রতিশ্রুতিবান লেখকের কবিতা,গল্প এবং নাট্যরূপ প্রকাশিত—একেবারে অর্থ নেই,সুকুদা নিজে টাইপ করে ঘরোয়াভাবে প্রকাশ করলেন—কভার সিল্ক স্ক্রিনে ছেপে ঘরে বসেই পিন বাইন্ডিং করে অনুষ্ঠানের আগের মুহূর্তে তৈরি—এসেছিলেন অভিনেত্রী মিতা চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিত্র বসু। তথাকথিত পত্রিকার জৌলুস না থাকলেও গড়ে উঠছে আভিজাত্য ও অহংকার।সে এক অনাবিল সৃষ্টিসুখ।নিজ হাতে গড়া যেন খাসা বাবুই বাসা।স্মরণিকার নামকরণ হলো সরণি,ছাত্র অরিজিৎ

পালের আঁকা ছবিতে প্রচ্ছদ, জেরক্স অফসেটে প্রকাশিত হলো—রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে নাম পাল্টে গেছে—সাহিত্য সরণি, বিশেষ সংখ্যা মানিক বন্দ্যো- পাধ্যায়ের জন্ম-শতবর্ষ,২০০৭। কলেবর এত বৃদ্ধি পেল যে ছাপাখানা পর্যন্ত পৌঁছতে পারছি না-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন দে’জ পাবলিশিং-এর অন্যতম কর্ণধার বাবুদা।সৌভাগ্যের এই যে এই প্রথম পাতিরাম স্টল এবং দে’জ থেকে প্রায় সব কপি পাঠকের উষ্ণ আলিঙ্গনে ঋদ্ধ হলো।পরবর্তী বিশেষ সংখ্যা নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (২০১৩)।

ইতিমধ্যেই বদলে গেছে কর্মক্ষেত্র—কলকাতা থেকে ছিটকে গেলাম ধানবাদ। অবশ্যই স্বেচ্ছায়।ক্রমে নাট্যমন্দিরের সাথে ছেদ পড়ে, সম্পাদক পাল্টে যায়— তারপর একটিও সংখ্যা প্রকাশের মুখ দেখল না।আমার তত্ত্বাবধায়ক ড. তাপস বসুর প্রেরণায় আবার শুরু

করলাম নতুন নামে নতুন পত্রিকা —সাহিত্য অঙ্গন, ডিসেম্বর ২০১৪, ISSN নম্বরসহ ওয়েবসাইটেও। সহযোগিতায় অধ্যাপকবন্ধুগণ। একক প্রয়াস হলেও মানসিক সমর্থন ছিল অনেকের, উদ্দেশ্য কেবলমাত্র প্রবন্ধ প্রকাশের— বাংলা,ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রকাশিত হলো প্রথম কয়েকটি সংখ্যা। যখন দূরভাষ অপরিচিত কণ্ঠে ভেসে আসে পত্রিকার লেখক হওয়ার জন্য, তখন উৎসাহ দ্বিগুণ হয়ে গেল।যখন শুনি পুণে থেকে এক লেখিকা ফোন করে বলেন,আমি কি গল্প পাঠাতে পারি?তখন আনন্দের স্রোত বয়ে যায় রক্তে। প্রমোশন নিশ্চিত হতেই বন্ধু সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। পত্রিকার প্রকাশের ভাষা হলো একমাত্র বাংলা।থামিনি, সৃজনশীল লেখকের অংশগ্রহণে আত্মহারা হয়ে মুহূর্তে জেগে ওঠে হৃদয়।এখন তো লেখক নিজেই হোয়াটস এ্যাপে লেখা পাঠান ওয়ার্ড ফাইলে—কনভার্টার দিয়ে পেজমেকার সূচিবদ্ধ করে প্রকাশনার কাজ চলতে থাকে —কেবল অর্থকষ্ট।এ তো আত্মহনন,তবুও শান্তি—সৃজনের অবিরাম আরাম।প্রকাশের রূপ নির্মাণ তো অনেক সহজ,প্রুফ সংশোধনের পরিশ্রম কিংবা পিয়ার রিভিউ—পূর্বের মতোই,এখানেই সম্পাদকের কৃতিত্ব — কেবল প্রকাশ পদ্ধতি অনেক সুলভ।

গুরুত্বপূর্ণ যেটা—কৌম মানুষের প্রয়োজন,পাঠক প্রখ্যাত লেখকের গন্ধ খুঁজে বেড়ায়, কিন্তু বৃক্ষ আর কাঠুরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিনির্মাণকে দেখা—কখনো অসহায় বসে থাকা।হাতের মুঠোতে আলতো অথচ শক্ত করে ধরার মধ্যে যেমন ফারাক তেমনি দুঃসাধ্য।

এখন সম্পাদনার কাজে প্রযুক্তিগত যোগ্যতর হয়ে ওঠা দরকার,অগ্রজ কৃষ্ণধন আচার্যের ছবি নিয়ে মানিকের হাতযশ আর আমার পরিকল্পনা—একেবারে অচেনা আনন্দ আনে,তৃপ্ত মূল্যবোধ অশ্বমেধের ঘোড়া হয়ে ওঠে, যেন বাঘের সঙ্গে চন্দ্রবোড়া,ঘটের গায় পটুয়ার আঁকা লতাপাতা—লৌকিক দেবতা;সব যেন এক সংক্রান্তিতে এসে মিলে যায়।এভাবেই বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হলো:

উপেন্দ্রকিশোর-সুকুমার, জন্ম-শতবর্ষে সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সোহারাব হোসেন সংখ্যা,করোনা পর্বে অনলাইনে করোনা সংখ্যা, কবি গণেশ বসুর আশি বছর, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত সংখ্যা, শঙ্খ ঘোষ –বুদ্ধদেব গুহ – আফসার আমেদ সংখ্যা।এছাড়া প্রতিবছর শারদ সংখ্যা না হলেও শারদীয় উদ্ভাস নিয়ে গল্প–কবিতা–প্রবন্ধ সংকলন।

মজার ব্যাপার সময় যতো গড়িয়েছে পাথরে পাথরে ঠোক্কর লেগে, পাখিরা ততোধিক আত্মকেন্দ্রিক— অধ্যাপকবন্ধুদের বেশিরভাগ চম্পট দিয়েছে।ডাকলে সাড়াও দেয় না—এটাই বাস্তব।ঘরের খেয়ে কে বা মোষ তাড়াতে চায়!সম্পাদক এখন একা, আসলে এভাবেই চলতে হয় সম্পাদককে।

মনে পড়ে প্রথম যখন সম্পাদনার কাজে হাতেখড়ি—সে যেন এক পিতার অভিজ্ঞতা।বিদ্যালয় পত্রিকার জন্য মাস্টারি, তখন নিজেও তেমন যোগ্য কিনা সন্দেহ, কবিতা লেখা চলতো মর্জিমতো, নিয়মিতি ছিল না।সময়টা ১৯৯৭।অথচ কচিকাঁচাদের লেখাকে ঘষেমেজে পাকা করে তোলার অভিভাবকত্ব—তখনও যে বোধ ও বোধির প্রয়োজন, তার কতটুকু ছিল জানি না,সেই কঠিন পরীক্ষা সম্পাদকের।যদিও মুদ্রণজনিত ব্যয় বা প্রকাশের পর কী হবে, কে পড়বে সে চিন্তা ছিল না—টাকা লাগে দেবে গৌরী সেন তথা কর্তৃপক্ষ।তথাকথিত ব্যবসায়িক বা প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার সে শ্রমের প্রয়োজন হয় কি?বিখ্যাত কিংবা প্রথিতযশা লেখকের লেখা নির্বাচন আর প্রুফ সংশোধন করে সাজানো—এই তো! দেশ বা পরিচয় পত্রিকার ক্ষেত্রে লেখকের প্রতিষ্ঠাই মাপকাঠি।

আর অপরিচিত বা উঠতি পত্রিকার সম্পাদকের প্রথম কাজ নানা প্রান্ত থেকে খুঁজে আনা,কোথায় পাবো পরশ পাথর, কিম্বা কোন ঝিনুকের খোলে পাওয়া যাবে মুক্তো! তারপর তাঁর অবস্থান ও লক্ষ্য ঘটে ভ্যালভেটের ট্রেতে— নামীদামী পত্রিকার পাতা। ভালো লেখার অনুসন্ধান,

ছাপানোর সাধ্যাতিরিক্ত ব্যয়, তারপর পাঠকের কাছে পৌঁছনোর জন্য প্রকাশ অনুষ্ঠান আয়োজন...লেখক–পাঠক সকলের কাছে যাওয়ার দায়— সবটাই কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মতোই করতে হয় সম্পাদককে। এরপর আছে প্রতিষ্ঠিত লেখকের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো অবমাননা,অবশ্য সংখ্যাটা হাতে গোনা।তখন ‘হে আমার পরিত্রাণ’ অন্ধকারে দু’চোখ বন্ধ করে খুঁজে যাই সমবেত এক পরিত্রাণ।বাসনা পূরণের অদম্য উদ্যোগ কখনো কখনো মুখ থুবড়ে পড়লেও উদগ্র আকাঙ্ক্ষাই থাকে।

প্রশ্ন ওঠে না কি—প্রতিষ্ঠিত কোনো বাজার পত্রিকার শারদীয় পাতায় যখন দুই কবির কবিতা এবং উপন্যাস দুই-ই ছাপা হয়,তখন সম্পাদনা কোন গভীরে প্রোথিত? অবশ্য ব্যর্থ প্রেমিকেরা এভাবে প্রশ্ন করে আর স্বাধীন সত্তায় খুঁজে বেড়ায় কুন্তলীন পুরস্কার।

সরকারি মহাফেজখানার ছায়ায় মজে যাওয়া দিঘি হতে চাই না, বরং যাঁরা সাধারণ লেখক–পাঠক, এখনো যাঁদের সিদ্ধি ঘটেনি তাঁদের কাছে রেখে যেতে চাই দুঃসাহসী পদক্ষেপ। সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘পাতাবাহার’ (১৯৫৪) মাত্র একবার প্রকাশিত হয়েছিল,অথচ তা আজও বাংলা সাহিত্যে সম্পাদনার ইতিহাসে স্মরণ্য দলিল।তেমনই অনন্ত আবেগে সাহিত্য অঙ্গন পত্রিকার এক একটি সংখ্যা রূপকথার পাখি হয়ে থাকুক

সঙ্গে আছে 'সুইনহো স্ট্রিট', 'পারানি', 'শমী', 'মালিনী', 'নৌবত' এবং অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিন—এর মতো সাথী। মননের গভীরে স্বনিত হয় কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের কবিতা ‘অভাজন : উৎসতলায়’-এর কয়েকটি পংক্তি:--

“চলন্তিকা মা আমার খুব ছোট্ট দেখতে

ঘুরে যাচ্ছেন তুলসীতলায়

বৌদ্ধ ভিক্ষুণীর আবেগের মিতব্যয়িতায়

……………

আমি তাঁর থেকে 

বাংলা ভাষার চলতি প্রবাদ ইডিয়াম মস্করা

সংগ্রহ করে নিচ্ছি”

 সম্পাদকের কাজ একা চলা,কেবল চলা নয় লড়াই করা—“সে ছিল একাই,সরু আলপথ বেয়ে একা-একা পার হতে হয়েছিল সহায়তা-হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউ”।


বিঃ দ্রঃ:- 'সম্পাদকের জানালা' কলামে লেখার দায় সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট সম্পাদক মহাশয়ের।'নৌবত' পত্রিকা কর্তৃপক্ষের নয়।
















Comments

Popular posts from this blog

ক বি বি জ য় সিং হ

ক বি নি ল য় র ফি ক