ক বি ফ রি দ আ হ ম দ দু লা ল


ফরিদ আহমদ দুলাল

জন্ম:-১৮ মে ১৯৫৬ ময়মনসিংহ ৬৯ রামবাবু রোড, ময়মনসিংহ।
ফরিদ আহমদ দুলাল সত্তর দশকের অন্যতম কবি। কবি পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি নাট্যকার, সমালোচক হিসেবেও খ্যাতিমান। লিটলম্যাগ সম্পাদক ও সংগঠক হিসেবেও তিনি তাঁর দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন।

কবি ফরিদ আহমদ দুলাল-এর লেখালেখি শুরু করেন ১৯৬৮ সালে। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৯টি। তার মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ১৭টি।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: অপূর্ব ডেকে যায়, লাবণ্য ছুঁয়েছি তোমাকে, জলের গহীনে রোদ, নিবিড় নিঃশ্বাস তার, করতলে রাত্রির ছোঁয়া, মুখোমুখি দুঃসময়, দীর্ঘ বিষাদ সড়ক, নিঃসঙ্গ রজনীর লাবণ্য, প্রত্যুষের বাগান রচনাপর্ব, মৈমনসিং গীতিকাভাসান, অরণ্যে অনর্থ তোলপাড়, সিলেক্টেড পোয়েমস, নাইওর, কৃষ্ণকলি নাম তার, মৃত্তিকাবন্দনা ইত্যাদি।

সাহিত্যপত্র সম্পাদনা : স্বতন্ত্র (২৫টি সংখ্যা)।পুরস্কার ও সম্মাননা : মহাদিগন্ত পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত (২০০৯), ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পদক, ময়মনসিংহ (২০১০), নাসিমা বানু স্বর্ণপদক: বনমালী ইনস্টিটিউট, পাবনা (১৯৯৯), রূপসী বাংলা পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি সংসদ,  পশ্চিমবঙ্গ, ভারত(২০০৯); সেবা সম্মাননা,  সেবা নিকেতন, ময়মনসিংহ (২০০৫), গীতিকার সম্মাননা, সন্দীপন সাংস্কৃতিক সংস্থা, ময়মনসিংহ (২০০৬), বাংলাদেশ রাইটার ক্লাব সম্মাননা, বাংলাদেশ রাইটার ক্লাব (২০০৬), নাট্যজন সম্মাননা, ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশন (২০০৩), নাট্য সম্মাননা, জেলা পরিষদ, ময়মনসিংহ(২০০০)। 

দুটি কবিতায়
কবি ফরিদ আহমদ দুলাল

মিছরিরছুরি

শৈশবে 'মিছরিরছুরি' বাগধারাটির সাথে হয় পরিচয়

ভাবিনি একবারও মিছরিরছুরিতে আছে ভয়।

আহা! কী সুস্বাদ! অলিক মিষ্টির সাথে তীক্ষ্ণ ধার

মিছরিরছুরি কী মায়াময় উপহার!

কৈশোর-যৌবন জুড়ে মিছরিরছুরি বিষয়ে মোহান্ধ ছিলাম

পরিণত জীবনে হঠাৎ আজ অলিক ছুরির সন্ধান পেলাম!

সে যেন অবাক মরীচিকা মিহি মোহময়ী মায়া

নিস্পন্দ নির্দয় ঘাতকের ছায়াহীন নীলকায়া;

দৃশ্যমান নয় এ ছুরি তবুও অবিরাম কাটে

যতক্ষণ রক্তপাত চলে ততক্ষণ সে পা চাটে

অতঃপর পতন নিশ্চিত হলে সময়-সুযোগে কেটে পড়ে

মিছরিরছুরি নামের স্তাবকতা দেখি গদিনসীন প্রতিটি ঘরে।


স্তুতিতে সন্তুষ্ট বাদশা নামদার মন্ত্রী-শাস্ত্রী সব

দণ্ডমুণ্ডের কর্তাকে ঘিরে চলে স্তুতির উৎসব,

স্তাবকতায় যে রক্তপাত সে-ও দৃশ্যমান নয়

অদৃশ্য দাপটে বিপন্ন সে তবু স্তুতি মধুময়;

মিছরিরছুরি স্বার্থান্ধ হীনমন্য লোভী প্রতারক

দৃশ্যত সে প্রেমময় বস্তুত সে গুপ্ত হন্তারক;

স্তাবক মিছরিরছুরি পাহাড়ও কাটে অনায়াসে

ভূপাতিত গিরি পরিচিতি পায় নব্য সেবাদাসে।


ছায়ার স্বরূপ


ছায়ার আড়ালে আমার যে ছায়া থাকে চুপিসারে

যতবার তার দেখা পাই ডেকে নিই অন্ধকারে;

নিরালোক অভিসারে ছায়া খোয়া যায়

এভাবে আমার প্রাত্যহিক অন্বেষণ ছায়ায় হারায়।

সুদূর গাঁয়ের মেঠোপথ থেকে ডেকে আনে ছায়া

আমিও ঘোরের মোহে স্বরূপ সন্ধানে তার হয়েছি বেহায়া!

ছায়ার মুখোশ খুলে যদি পাই তার সাক্ষাৎকার

নিজের ভিতরে যে ঈশ্বর সে-কি হবে আবিষ্কার?


কে জানে কোথায় আমার ঈশ্বর থাকে

দেখা নেই তার ছায়ার আড়াল থেকে তবু ডাকে

কখনো মেঘের ছায়া দেখে হেঁটে যাই

তরু ছায়ায় কখনো নিজেকে লুকাই

আরো গাঢ় ছায়ার সন্ধানে পাহাড়ের কাছে যাই

পাখির ছায়ায় ভেসে আকাশের নীল ছুঁতে চাই;

ছায়ার আড়াল তবু অধরাই থাকে

তবে কি ছায়ারা আমায় দিগন্ত পার হতে ডাকে

মৃত্তিকা যেদিন আমার ছায়াটি করে নেবে গ্রাস

নিশ্চয় সেদিন এ জীবনে পাবো মুক্তির আশ্বাস।

Comments

Popular posts from this blog

ক বি বি জ য় সিং হ

ক বি নি ল য় র ফি ক